• ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ
  • সাবেক ছিটমহলবাসীদের স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান পূবালী ব্যাংকের

অনিয়মের আরেক নাম গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স

globali
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ অনিয়মে জর্জরিত হয়ে পড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের সাধারণ বীমা কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। মূলধন ঘাটতি সহ ২০১৪ সাল থেকে কোম্পানিটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া কোম্পানিটি করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন (সিজিজি) ভঙ্গ করলেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

মূলধন ঘাটতি : ২০১০ সালের বীমা আইন এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যাসেল-২ অনুযায়ী নন-লাইফ বীমা কোম্পানীর ক্ষেত্রে ন্যুনতম পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ বা ২৪ কোটি টাকা দেবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকগণ। বাকি ১৮ কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে বা অন্য কোন ভাবে সংগ্রহ করতে পারবে। তবে বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের মাত্র ৩৪.১৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকের কাছে, যা হওয়ার কথা ছিল ৬০ শতাংশ।

অপরদিকে ২০১০ সালে বীমা আইন জারির আগে যে সব কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছিল সেইসব কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ তিন বছর সময় দেয়।

বর্তমানে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন রয়েছে মাত্র ২৭ কোটি ১০ লাখ টাকা। বীমা আইন-২০১০ এবং এডিবির ব্যাসেল-২ অনুযায়ী তাদের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ঘাটতি রয়েছে ১০ কোটি টাকা ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পরিশোধিত মূলধনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কোম্পানিটি চার বছরেও পূরণ করতে পারেনি।
আইন অনুযায়ী মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ শেয়ার পারিচালনা পর্ষদের কাছে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব জসিম উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এটা আসলে আগের ধারাবাহিকতায় চলে আসছে। এটা পুরণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার একাধিক মহলের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং এখনো চলছে। কতদিনের মধ্যে পরিশোধিত মূলধনের ৬০ শতাংশ পরিচালনা পর্ষদের কাছে আসতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি।

তিনি আরো বলেন, আইডিআরএ এই বিষয়ে তিন বছর সময় দিয়েছিল কিন্তু আমাদের এখনো মূলধন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি, অন্যান্য অনেক কোম্পানিই এখনো মূলধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। আমরা এটি কিভাবে করবো এ বিষয়ে আইডিআরএর কাছ থেকে জানতে চাইলে তারা আমাদের একটি প্রবিধান দিবে বলেছিল কিন্তু এখনো সেই প্রবিধান দেয়া হয়নি। তা ছাড়া বিষয়টিকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর সদস্য কুদ্দুস খান বলেছেন, আমরা সলভেন্সি মার্জিন নামে একটি নতুন নীতিমালা প্রনয়নের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এই নীতিমালা হলে কোম্পানিগুলো স্বপ্রনোদিত হয়েই পরিশোধিত মূলধন বাড়াবে। কেননা তাদের পরিশোধিত মূলধন এর উপর নির্ভর করবে ঝুঁকি নেয়ার ক্ষমতা। আর আইনের পরিপন্থি কোন কার্যক্রম রোধে প্রতিনিয়ত আমরা শাস্তি স্বরুপ জরিমানা করে থাকি।

প্রধান নির্বাহী নেই: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছাড়াই কোম্পানিটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অথচ আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাহীর পদ তিন মাসের অধিক শূন্য রাখা যাবে না। এ পদে যোগ্য ব্যক্তি না পাওয়া গেলে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে আইডিআরএ’র অনুমোদন নিতে হবে। অথচ কোম্পানিটিতে প্রধান নির্বাহী না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়ে কাজ চলছে।

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মোশারফ হোসেন।

এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, আগের সিইও ২০১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এ পদে নেই। এর পর থেকে মো. মোশাররফ হোসেন ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্ধারিত সময়ে নতুন সিইও এর নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই পূর্ণাঙ্গ সিইও হিসেবে অনুমোদনের জন্য আইডিআরএ’র কাছে আবেদন করা হয়।

সিজিজি লঙ্ঘন: ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি’র জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কাছে সর্বনিম্ন ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে। কিন্তু ২০১৩ সালের আথির্ক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে মোট শেয়ারের ২৪ শতাংশ। অপরদিকে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কোন পরিচালক ২ (দু্ই) শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। এখানে ৪ (চার) জন পরিচালক ২ (দু্ই) শতাংশের নীচে শেয়ার ধারণ করছেন। এর মধ্যে নাসির উদ্দীন চৌধুরীর কাছে ০.৬৯ শতাংশ শেয়ার, সাদমান সাকিব অপূর্বের কাছে রয়েছে ০.০০৪ শতাংশ শেয়ার, আরেফিন আহমেদের কাছে ০.৬৮ শতাংম শেয়ার এবং হাসিনা বেগমের কাছে ০.০১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

এ বিষয়ে কোম্পানি সচিব জসিম উদ্দীন বলেন, এটা ঠিক তবে আপনাকেও জানতে হবে যে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারী।

বিভাগ - : বীমা

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন