• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

এসবি গ্রুপ ভুয়া বন্ধকে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়

bcb7
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ কমার্স ব্যাংকের ৩শ কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে অভিনব কায়দায়। বেসিক ব্যাংকে বন্ধক রাখা জমি পুনরায় কমার্স ব্যাংকে বন্ধক রাখা, ভুয়া জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকের অর্থে জমি ক্রয় এবং পরে দলিল পরিবর্তন, একজনের এফডিআর অন্যের ঋণের জামানত হিসেবে দেখিয়েও ঋণের নামে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অপর্যাপ্ত জামানত ও ভুয়া জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকের ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এসবি গ্রুপ। এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে।

সোমবার কমার্স ব্যাংকের সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বংশাল শাখা ব্যবস্থাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত আরও কিছু রেকর্ডপত্র দুদকের হাতে আসে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকটির বংশাল শাখার যমুনা এগ্রো কেমিক্যাল, রাজিব ট্রেডিং, মদিনা এন্টারপ্রাইজ এবং ইউশা ট্রেডিংকে দেয়া ঋণের রেকর্ডপত্র ও ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদন। গত ১২ আগস্ট দুদক এসব রেকর্ডপত্র তলব করে। দুদক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সম্প্রতি কমার্স ব্যাংকের ৮শ কোটি টাকা ঋণ প্রদানে ব্যাপক জালিয়াতি ও অনিয়ম ধরা পড়ে। এর মধ্যে রাজধানীর বংশাল শাখা, দিলকুশা শাখা এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখায় জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয় ৩শ কোটি টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বেশকিছু গ্রাহককে ঋণ দেয়া হয়েছে। এমনকি পর্ষদের অনুমোদিত ঋণের চেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করা করা হয়েছে। পর্ষদের শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়াই ঋণের টাকা ছাড়, ঋণের টাকা আদায় না করে জামানত অবমুক্ত করা, বেসিক ব্যাংকে বন্ধক দেয়া জামানত কমার্স ব্যাংকে বন্ধক নেয়া, একজনের এফডিআর অন্য গ্রাহকের ঋণের জামানত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এলসি খোলা, এলটিআর (পণ্য আমদানির জন্য স্বল্প মেয়াদি ঋণ) ইস্যু করা, এলসির দেনা শোধে কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ডলার, ইউরো কেনা, জালিয়াতির বিষয়টি জেনেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার মতো অনিয়ম হয়েছে।

সূত্র জানায়, কমার্স ব্যাংকের দিলকুশা শাখা থেকে এসবি গ্র“পকে ৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে। ঋণের বিপরীতে যথেষ্ট জামানত নেয়া হয়নি। যেসব জামানত নিয়ে ঋণ দেয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো ভুয়া। প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাহজাহান বাবলু ব্যাংকে প্রথম ভুয়া দাগ নম্বরের জমি বন্ধক রাখেন। ঋণ মঞ্জুর হওয়ার পর কমার্স ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থে জমি কেনেন। বিষয়টি নিরীক্ষায় ধরা পড়লে পূর্ববর্তী দলিল নিজেই ত্র“টিপূর্ণ বলে ফেরত নেন। পরিবর্তে ঋণ মঞ্জুরের পর ব্যাংকের টাকায় কেনা জমির দলিল বন্ধক রাখেন। অভূত এ জালিয়াতির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়। ঋণ শোধের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত ৮ দফা অঙ্গীকার করেও গ্রাহক এসবি গ্র“পের মালিক পুরো ঋণ শোধ করেননি। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে তিনি ঋণ নেন তার ১১ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই কার্যক্রমহীন, অস্তিত্বহীন কাগুজে প্রতিষ্ঠান। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক ও জনপথের জমির ওপর স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান কার্যালয়।

সূত্র জানায়, কমার্স ব্যাংকের বংশাল শাখা থেকে ঋণের নামে সিদ্দিক ট্রেডিং ১২ কোটি, মদিনা এন্টারপ্রাইজ ৪ কোটি টাকা, রাজিব ট্রেডার্স ১৫ কোটি ৮০ লাখ এবং ইউশা ট্রেডিং ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। ইউশা ট্রেডিং ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক ইফতেখার আহমেদের বেনামি প্রতিষ্ঠান। তাকে পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সূত্রমতে, চট্টগ্রামে কমার্স ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ঋণের নামে মেরিন ভেজিটেবল ওয়েল ৫৫ কোটি টাকা এবং নুরুন্নবী নামে এক ব্যক্তি ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। শাখাটির সাবেক কর্মকর্তা মাঈনুদ্দিন আহমেদ গ্রাহকদের আমানতের প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত-১ শাখার উপপরিচালক আবদুছ ছাত্তার সরকার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অনুসন্ধান তদারক করছেন দুদকের পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

বিভাগ - : এক্সক্লুসিভ, ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন