• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

খেলাপি ঋণ আদায়ে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ডেট রিকভারি আইন হচ্ছে

newlaw
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবলোপনকৃত ও মন্দমানের খেলাপি ঋণ আদায়ে এবার বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ডেট রিকভারি আইন করা হচ্ছে। এর খসড়া প্রণয়নে সম্প্রতি ১৩ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে সরকার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে’কে আহ্বায়ক করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে আইনের খসড়া প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। তা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে মন্দমানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮১ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপনকৃত মন্দ ঋণ রয়েছে আরও ৩৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এ হিসাবে ব্যাংকিং খাতে মোট অনাদায়যোগ্য খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও ও বেসিক- এ পাঁচ ব্যাংকে সবচেয়ে বেশি অবলোপনকৃত ও মন্দ ঋণ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া বিশেষায়িত খাতের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মন্দ ঋণ রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, তদবির ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এসব ঋণ বের করে নেয়া হয়েছে, যা বছরের পর বছর ঋণখেলাপিদের কাছে আটকে আছে। এক্ষেত্রে ঋণ আদায়ের প্রচলিত সব পদ্ধতি প্রয়োগ করেও তা আদায় করা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় ডেট রিকভারি আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ ধরনের আইনের খসড়া প্রণয়নে কমিটি গঠনের অফিস আদেশ জারি করা হয়। কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অডিট ও পরিদর্শনের একজন উপসচিবকে রাখা হয়েছে। ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের পর এরই মধ্যে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন আইনে বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ডেট রিকভারি এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষ নিয়োগের বিধান থাকবে, যারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে অবলোপকৃত ও মন্দমানের খেলাপি ঋণ আদায় করে দেবে। বিনিময়ে তারা নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন পাবেন। এছাড়া আইনে ডেট রিকভারি এজেন্ট নিয়োগ, ব্যাংকের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং তাদের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দেয়া হবে।
সূত্র বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যারা রিকভারি এজেন্ট হবে, তাদের রেগুলেটেড প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এনজিওদের ক্ষেত্রে রিকভারি এজেন্টদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি করা হতে পারে।
জানা গেছে, বিশ্বের অনেক দেশেই ডেট রিকভারি এজেন্টের মাধ্যমে এসব ঋণ আদায় করা হয়। এর জন্য নির্দিষ্ট আইন, পদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ থাকে, কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। তবে বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের আইডিয়া একেবারে নতুন নয়। সম্প্রতিককালে আমাদের দেশে এ ধরনের এজেন্ট তৈরি হয়েছে, যারা কালেকশন সার্ভিস দেয়। বিভিন্ন সময় সরকারি-বেসরকারি কিছু ব্যাংক নিজেদের উদ্যোগে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এসব ঋণ আদায়ের চেষ্টাও করেছে। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণে সঠিক আইনি কাঠামো না থাকায় এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব ঋণ আদায়ে এজেন্ট, ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আবার ব্যাংক কর্তৃক এজেন্টকে কমিশন বুঝিয়ে না দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এজন্য নতুন আইনে সঠিক পদ্ধতিতে ডেট রিকভারি এজেন্ট নিয়োগ ও তাদের কমিশন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। আবার এজেন্টরা যাতে ব্যাংক গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণ করতে না পারে, ওই দিকটিও গুরুত্ব পাবে। ফলে এটা ব্যাংক গ্রাহকদের সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোকিত বাংলাদেশকে জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ঋণ আদায়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও আইনি কাঠামো রয়েছে। যারা এ কাজগুলো করে, তাদের কোড অব এথিক্স রয়েছে- কী করা যাবে, কী করা যাবে না; কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। এক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষ কাস্টমারের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতে পারে। কিন্তু আইন হয়ে গেলে সেটা করার সুযোগ থাকবে না।
এটা কাস্টমারের জন্য পজেটিভ সাইড। তিনি জানান, বেশিরভাগ দেশে এক্ষেত্রে দুইটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে দেখা গেছে। প্রথমটি হলো- ব্যাংকের পক্ষে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডেট রিকভারি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা, যারা নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে ব্যাংকের এ ধরনের ঋণ আদায় করে দেবে। অপরটি হলো- ডেট রিকভারি এজেন্ট প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের পাওনা ঋণগুলো কম টাকায় সমঝোতার ভিত্তিতে কিনে নেবে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রথম পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। এর আলোকে খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে অনাদায়যোগ্য হয়ে পড়া খেলাপি ঋণের অধিকাংশই করপোরেট গ্রাহক বা রাঘব-বোয়ালদের দখলে রয়েছে। ডেট রিকভারি এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হলেও তাদের কাছ থেকে লোন আদায় করা কঠিন হবে। কারণ রাঘব-বোয়ালদের কাছ থেকে এ ধরনের ঋণ আদায়ে তৃতীয় পক্ষকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। তবে ছোটখাটো ঋণখেলাপিদের জন্যই এ আইন বেশি ফলপ্রসূ হবে। অন্যদিকে তৃতীয় পক্ষ যখন নিয়োগ করা হবে, তখন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের আগ্রহ থাকবে না। কারণ তারা তখন তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।

বিভাগ - : ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন