• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

তাঁত শিল্পে স্বাবলম্বীর চেষ্টা

ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কম:চর সিধাই গ্রামে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া গ্রামটির মানুষের এখন ভ্যাগ্যোন্নয়নের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। গাইবান্ধা মোলারচর ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে রয়েছে কয়েকটি ছোট বড় চর। প্রায় ৩শ’ পরিবারের বাস। কৃষির উপর নির্ভরশীল এখানকার মানুষ। ছিটা আমন, বাদাম, কাউন, চীনা, ভুট্টা এবং সজ্বির মধ্যে পটল ও কাঁচা কলার চাষ হয় সেখানে।

অনেকেরই শুধু ভিটাবাড়ী ছাড়া আবাদী কোন বাড়তি জমিই নেই। দিনমজুরী করে তাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। জীবিকার জন্য অনেকেই কৃষি মৌসুম ছাড়া অন্য সময় কাজের সন্ধানে সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। বাড়তি আয়ের কোন সুযোগ নেই গ্রামে। অধিকাংশ মানুষের জীবন যাত্রার মান তাই নিম্ন।

একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না গ্রামটিতে। চিকিৎসার ব্যাবস্থা ছিলনা। সেই গ্রামে এখন পরিবর্তনের হাওয়া। ফ্রেন্ডশীফ নামে একটি বেসরকারী  সংস্থা সেখানে আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে। কৃষিক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। সবুজ সমারোহে উচ্ছল এখন শাক সব্জি এবং ধান, বাদাম আর কাউনের ক্ষেতে।

অপর দিকে শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া গ্রামটিতে প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে একটি স্কুল স্থাপন করেছে। সেই সাথে অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনয়নে সেখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি তাঁত প্রশিক্ষন কেন্দ্র। তাঁতের মাকুর খট্ খট্ শব্দ এখন ঘুম ভাঙ্গে আশে পাশের মানুষের। ওই গ্রামের মেয়েরা ববিনে সুতা তোলা থেকে শুরু করে সুতার রং লাগানো-শুকানো তাঁত চালানো সব কাজ শিখছে গ্রামের নারীরা।

গত বছর (২০০৯) এর ৫ ফের্রুয়ারি ওই গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রেন্ডশীপ উইভিং, ডাইয়িং এন্ড প্রিন্ট প্রজেক্ট-এর উদ্বোধন করেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদ্য বিদায়ী রাষ্টপতি ষ্টিফেন ফোয়েন। সেই সাথে শুরু হয় সিধাই গ্রামের নারীদের আত্মনির্ভর হওয়ার সংগ্রাম। গত প্রায় দু’বছরে ওই গ্রামের মোট ৫০ জন নারী তাঁত শিল্পে প্রশিণ নিয়ে এখন কাপড় তৈরীর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাড়ীর কাজের ফাঁকে ফাঁকে ওই প্রশিণ প্রাপ্ত নারীরা কাপড় তৈরী করছে। এ থেকে গড়ে তাদের দু’হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে।

তারাএক সময় এক টাকাও রোজগার করতে পারেনি। বাড়ীতে থেকে আয় চাট্টিখানি কথা নয়্ । এখানে তাঁতের কাজ করে কলেজে লেখাপড়া করছে প্রচুর মেয়ে। যারা তাঁত প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন আত্মনির্ভর হওয়ার পথে। তারা সংসারের পরিবর্তন  এনেছে। তারা কল্পনাও করতে পারেনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সিধাই গ্রামের তৈরি করা কাপড় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেচাকেনা হবে।  যা তারা ভাবেনি তা তারা কল্পনা করেনি। সেই ছোট্র গ্রামটিতে আজ নারীরা সেখানে জীবিকার সন্ধান পেয়েছে। তারা এখন আত্মনির্ভর হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

বিভাগ - : শিল্প

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন