• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

নতুন উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছে ব্যাংক ঋণ থেকে

loan1

ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এবং নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মাঝে ঋণ বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। আর ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকার নতুন নতুন উদ্যোক্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ২৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে রাজধানীর মতিঝিল থানা এলাকায়। আর পুরো ব্যাংক খাতের প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে মাত্র ১০টি থানায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অল্পকিছু অঞ্চলে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ায় অন্য অঞ্চলে বড় কোনো শিল্প গড়ে উঠছে না। আর্থিক খাতকে গতিশীল রাখতে দেশের সব এলাকায় ঋণ বিতরণ সমান হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।

সম্প্রতি ‘ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং’ শীর্ষক এক সেমনিারে ব্যাংকিং খাতের এ কেন্দ্রীভূত ঋণের কথা স্বীকার করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। সেসময় তিনি কেন্দ্রীভূত এ ঋণ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ কিছু এলাকা ও ব্যক্তির মাঝে কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে। কোনো ব্যাংকের শীর্ষ ১০ ঋণ গ্রহীতা খেলাপি হলে সে ব্যাংক উচ্চমাত্রায় ঝুঁকির মধ্যে থাকে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের ব্যাংকগুলোর রীতি এমন হয়েছে যে আগে একটি ব্যাংক একজনকে ঋণ দিতো। কিন্তু এখন সব ব্যাংক ওই একজনকেই ঋণ দেয়। আর নতুন কোনো উদ্যোক্তা ঋণ নিতে গেলে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। এর ফলে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না অন্যদিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে বেশি ঋণ থাকায় ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

অল্পকিছু এলাকায় ব্যাংকের ঋণ সীমাবদ্ধ রেখে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি সম্ভব নয়- একথা উল্লেখ করে সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের ভালো উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণের সুফল পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো সারাদেশে মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে মতিঝিল থানায় অবস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬১হাজার ২৯২ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে গুলশানে অবস্থিত ব্যাংক শাখার মাধ্যমে; যা মোট ঋণের ১৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

এরপরে রয়েছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন বিভিন্ন শাখা; যেগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ২০ শতাংশ ঋণ। এছাড়া ডাবলমুরিং থেকে ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ, ধানমণ্ডি থেকে ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, রমনা থেকে ৩ দশমিক শূন্য ৪, তেজগাঁও ২ দশমিক ৪১, কোতোয়ালি এক দশমিক ৬৬, উত্তরা এক দশমিক ৬৫ এবং নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে অবস্থিত ব্যাংক শাখার মাধ্যমে এক দশমিক ৪৫ শতাংশ বিতরণ হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সারাদেশে বর্তমানে ৬৩৫টি থানা ও ৪৮৭টি উপজেলা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার ৫৬টি ব্যাংকের এখন শাখা রয়েছে ৮ হাজার ৭৯৪টি।

এক সময় ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো শাখা খুলতো। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন শহরে একটি শাখার বিপরীতে গ্রামে একটি শাখা খোলা বাধ্যতামূলক করেছে। সে অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো শাখা খুললেও লাভজনক এলাকার বাইরে যাচ্ছে না।

বিভাগ - : অর্থ ও বাণিজ্য, ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন