• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

বিশৃঙ্খল বীমা খাতে নতুন কোম্পানি অনুমোদনের পায়তারা

Insurance1
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অজান্তেই নতুন করে আরো বীমা কোম্পানির অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে দেন দরবারও অনেকটা শেষ পর্যায়ে। তিনটি কোম্পানি সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। তবে নিয়ন্ত্রন সংস্থার মতে, এ ধরনের কোন উদ্যোগ আপাতত নেই। আর বীমা ব্যবসায়ীরা মনে করেন নতুন বীমা কোম্পানির নিবন্ধনের আগে চলমান ব্যবসায়িক সংকট নিরসন দরকার।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে পুরাতন কোম্পানিগুলোকে এর আওতায় নিবন্ধন করানো হয়। পরে নতুন করে বীমা কোম্পানি পরিচালনায় আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহন করা হয়। বীমা আইন’২০১০ প্রকাশ হওয়ার পর ২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ সময় বেধে দিয়ে নতুন কোম্পানির আবেদন গ্রহণ করা হয়। সে সময়ে নানা কারণে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ে মোট ৭৭ কোম্পানি আবেদন করলেও অনুমোদন দেওয়া হয় মাত্র ১৬টির। এসব কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে সরকারের এমপি-মন্ত্রী ছাড়াও রাজনৈতিক নেতারা জড়িত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবেদনকৃত কোম্পানির মধ্য থেকে রাজনৈতিক বিবেচনায় এসব কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

আইডিআরএ একটি সূত্র জানিয়েছেন, নিবন্ধন পাওয়ার পর অনেকেই কাজ শুরু করতে পারেনি দীর্ঘদিন। অ-অনুমোদিত কোম্পানির আবেদনও বাতিল হিসাবে গণ্য হয়েছে। আর জাপানী কোম্পানীর সাথে যৌথ উদ্যোগে শর্ত স্বাপেক্ষে অনুমোদনপ্রাপ্ত (অনিবন্ধিত) তাইও-সামিট কোম্পানিটি পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে আর কোন ধরনের যোগাযোগ করেনি। নিয়মানুয়ী,আবেদনের এক বছরেও কোন যোগাযোগ না করলে তাদের আবেদনও বাতিল হিসাবে গন্য হবে। অথচ এ কোম্পানি অনুমোদন প্রাপ্তির দুই বছর পার হলেও কার্যক্রম শুরু করেনি। অন্যদিকে তাদের লাইসেন্সও বাতিল করেনি আইডিআরএ।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনই নতুন কোম্পানি নিবন্ধনের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তবে তিনটি নতুন কোম্পানি নিয়োগ পেতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন। সূত্র মতে, তিনটি কোম্পানিতে আওয়ামীপন্থী ব্যবসায়িরা জড়িত রয়েছেন। এদের মধ্যে দুটি কোম্পানী এর আগে আবেদন করে অনুমোদন লাভে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের নতুন এই মেয়াদে তিনটি কোম্পানি নিবন্ধন নিতে জোর তদবিরও চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে সবুজসংকেতও পেয়েছেন। খুব শীঘ্রই নতুন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরখাস্ত আহ্বান করা হলেও কোম্পানি তিনটি নিবন্ধন পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। তবে নিবন্ধন পাওয়ার আগ পর্যন্ত এসব বিষয়ে তারা কোন কথা বলতে রাজি নয়।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ সদস্য মো.কুদ্দুস খান বলেন, গত বছর দরখাস্ত আহ্বান করে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে কিন্তু এখন আপাতত সেই ধরনের কোন উদ্যোগ নেই। নতুন করে নিবন্ধন দিতে হলে আবার পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বিগত সময়ের সব আবেদনই বাতিল হিসাবে গণ্য হয়েছে। সেই সময়ের কেউ নিবন্ধন পেতে চাইলে আবার আবেদন করতে হবে। তবে আপাতত নিবন্ধন বিষয়ে ভাবছে না কর্তৃপক্ষ। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্তৃপক্ষ আপাতত নতুন নিবন্ধন নিয়ে ভাবছে না। তবে পুরাতন আবেদনকারী কোম্পানির মধ্য থেকে আবারও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু নিবন্ধনের বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোন কথা হয়নি। তিনি জানান, প্রস্তাবিত কোম্পানিগুলো মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে মৌখিক নির্দেশনা আনার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কোনো প্রস্তুতি বা আগ্রহ নেই। তবে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলে সেভাবে হয়তো কাজ করতে হবে। ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জামাল এ নাসের বলেন, কোম্পানির অনুমোদনের ব্যাপারে আমার কোন বক্তব্য নেই। তবে আমি বলবো অনুমোদনের আগে এ খাতের বিশৃঙ্খলা নিরসনে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের নজর বাড়ানো উচিত। এ খাতের অবস্থা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। এ খাতের নেতিবাচক প্রচারণাগুলোকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘কোম্পানির অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই বর্তমান ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তারা কোম্পানির অনুমোদন চাইলে দিক। তবে আমাদের ব্যবসায়িক যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেগুলোর প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত আগে। দেশের সকল মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে বীমার আওতায় আনা, আইন অনুযায়ী যাদের বীমা করতে হবে তাদের বীমা বাধ্য করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বীমা কোম্পানির ফান্ডের টাকা বিনিয়োগের নীতিমালা পাশের উপর তিনি গুরুত্ব দেন তিনি।

বিভাগ - : বীমা

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন