• স্টাইল ক্রেইজ (style craze) ফ্যাশন হাউজে নতুন ঈদ কালেকশন
  • ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ

ব্যাংক খাতে কমেছে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ

bank
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ ব্যাংক খাতে কমেছে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ। চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের ৫টি ব্যাংক তিন হাজার ৪৩৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে। এর আগে মার্চ প্রান্তিকে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতি কমেছে ৯২৮ কোটি টাকা। আর এক বছরের ব্যবধানে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ কমেছে এক হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এবং প্রভিশনিং সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণ কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও কমেছে। আলোচ্য সময়ে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর ৩০ হাজার ৩৬ কোটি টাকার প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও এ সময়ে তারা ২৭ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকার প্রভিশন রেখেছে। ফলে সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। যা এর আগের প্রান্তিক মার্চ শেষে ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ শেষে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ মোট ৮টি ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতির তালিকায় থাকলেও জুন শেষে তা কমে ৫টিতে দাঁড়িয়েছে। প্রভিশন ঘাটতির তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। আর এ সময়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে সোনালী ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশিরভাগই আমানতকারীদের অর্থ। আমানতকারীদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণীকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে দশমিক ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়। অর্থাৎ ব্যাংকটি যে পরিমাণ আয় করে তা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারায় ঘাটতি দেখা দেয়। প্রভিশন ঘাটতি হলে ওই ব্যাংকের রিটেইন আর্নিং কমে যায়। এভাবে পরে সমন্বয় করতে না পারলে মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়। আর সেইসঙ্গে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয়ও (ইপিএস) কমে যায়। আয় কমে গেলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সোনালী ব্যাংকের ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও ব্যাংকটি ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা রেখেছে। এতে করে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ হয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। আর বেসিক ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। এ সময়ে তাদের ১ হাজার ৯শ’ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও রেখেছে মাত্র ২০৯ কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ হয়েছে ১৯৬ কোটি টাকা। এ সময়ে তাদের ২৭৮ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার শর্ত থাকলেও তারা রেখেছে ৭৪ কোটি টাকা। আর ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যাংকটির ৫৮২ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার কথা থাকলেও তারা ৫২০ কোটি টাকা রেখেছে। একই সময়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৩৩৯ কোটি টাকা প্রভিশন রাখার প্রয়োজন হলেও তারা ৩১৯ কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। ফলে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

বিভাগ - : এক্সক্লুসিভ, ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন