• ২০২০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক
  • বিশেষ তহবিলে বিনিয়োগের সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ব্যাংকিং সেক্টরেও আছে দুষ্টু চক্র : এনবিআর চেয়ারম্যান
  • ৫ দিনব্যাপী ব্যাংকিং মেলা শুরু
  • এসএমই ঋণে সুদ হারের ব্যবধান সিঙ্গেলে রাখার নির্দেশ
  • বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি:
  • বাংলা একাডেমিতে বসছে ব্যাংকিং মেলা
  • দুদক বেসিক ব্যাংকের নথিপত্র সংগ্রহে আদালতে যাবে
  • স্কুল ব্যাংকিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশ
  • সাবেক ছিটমহলবাসীদের স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান পূবালী ব্যাংকের

৪১ ব্যাংক পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে কাজ করবে

fr
ব্যাংক নিউজ ২৪ ডট কমঃ জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রচারণা চালানো হচ্ছেযাযাদি রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মোট ৪১টি ব্যাংক ঢাকার ১৬টি কুরবানির পশুর বাজারে জাল টাকা প্রতিরোধে কাজ করবে। জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহযোগিতা করবে এসব ব্যাংক।

জানা যায়, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মুসলমানদের ধর্মীয় বড় উৎসব ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে কুরবানির পশুর হাটগুলোয় বরাবরের মতোই কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুধু রাজধানীতে ১৬টি স্থানে বসেছে পশু কেনাবেচার হাট। যেখানে জাল টাকা ঠেকাতে কাজ করবে ৪১টি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন টিম। ঈদ-পুজোর মতো বড় দুই উৎসবকে সামনে রেখে জাল টাকার কারবারিদের অপতৎপরতা ঠেকাতেই এ ধরনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবারের পশুর হাটগুলোয় নতুন-পুরনো মিলে প্রায় এক হাজার জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এদিকে জামিনে থাকা জাল নোট কারবারিদের ওপরেও বিশেষ নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্রমতে, আগামী সপ্তাহেই কুরবানি পশু কেনার হাট জমে উঠবে। এ ছাড়া উপহারসামগ্রীসহ অন্য পোশাক-আশাক কেনার ধুম পড়বে। পরের মাসে ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এই দুই উৎসবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার লেনদেন হবে। নগদ টাকার লেনদেনের এ সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে জাল টাকার কারবারিরা। তাদের ঠেকাতেই এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, জাল নোট তৈরি ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বেশ কয়েকটি চক্র। এদের সঙ্গে কিছু অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চক্রকে শনাক্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে প্রচলিত নোটগুলোর মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটই বেশি পরিমাণে জাল হচ্ছে। জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম ও নোটসহ যেসব প্রতারক চক্র ধরা পড়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই ওইসব নোটের জালকারী। ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো এখন জাল হচ্ছে না বললেই চলে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জাল নোটসহ গ্রেপ্তার করা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ থাকলেও এ ক্ষেত্রে জোরালো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব জাল নোট উদ্ধার করা হয়, ওইসব মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয় তারা নিয়মিত সাক্ষ্য দিতে আসেন না। ফলে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে না। আর যেগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে, সেগুলোয় সাজা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জাল টাকা প্রতিরোধ কমিটির সভায় বারবার বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এর বিপরীতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

জানা যায়, এক হাজার টাকার মতো বড় নোটই জাল হয় বেশি। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে ছাপানো এসব জাল টাকা মানুষের হাত ঘুরে চলে আসে, নগদ লেনদেনের সবচেয়ে ব্যস্ততম জায়গা ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরনো টাকার ওপর ছাপ বসানো হয়, যা জালটাকা শনাক্তকারী মেশিন ধরতে পারে না। এজন্য প্রতিটি টাকার নোট চোখে দেখে শনাক্ত করে রাখতে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, পশুরহাটে নোট জালকারী চক্রের অপতৎপরতা রোধকল্পে দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও থানা পর্যায়ের অনুমোদিত কুরবানির পশুরহাটগুলোয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিরতিহীনভাবে জাল নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদান করবে। এবার রাজধানীতে দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ১৬টি পশুরহাটে ৪১টি ব্যাংকের মাধ্যমে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকার বাইরে যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা অফিস রয়েছে সেখানেও ওই শাখা অফিস তত্ত্বাবধায়ন করবে। যেখানে শাখা অফিস নেই সেখানে সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখার (চেস্ট শাখা) মাধ্যমে বাজার তদারকি করা হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত পশুরহাটগুলোয় নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা দেয়ার লক্ষ্যে সব তফসিলি ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোদিত কুরবানির পশুরহাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনসহ বুথ স্থাপন করা হচ্ছে। ক্যাশ বিভাগের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সহায়তায় হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের পূর্বরাত পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে তফসিলি ব্যাংকগুলো নোট যাচাই-সংক্রান্ত সেবা প্রদানের নির্দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারে উন্নতমানের জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘প্রতি ঈদেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিপণিবিতানে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করে থাকি। এবারো যদি ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চায় তবে মেশিন দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদে পশুর হাটগুলোয় আলাদা মেশিন নেয়া হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে বুথ বসানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে জাল নোট প্রতিরোধে সচেতনাতামূলক ভিডিও প্রদর্শন, গণমাধ্যমগুলোয় বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

বিভাগ - : জাতীয়, ব্যাংক

কোন মন্তব্য নেই

মন্তব্য দিন